অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। তিনি জানান, সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারকে আরও ছয় মাস সময় নিতে হতে পারে।

\r\n

গত বৃহস্পতিবার (২৯ মে) জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত ৩০তম নিক্কেই ফোরামে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

\r\n

ড. ইউনূস বলেন, “কিছু রাজনীতিবিদ ডিসেম্বরে নির্বাচন চান। কিন্তু আমরা চাই না দেশকে সেই পুরোনো, ভঙ্গুর ব্যবস্থার হাতে ছেড়ে দিতে। আমরা যদি সত্যিকারের সংস্কার ও ভালো কাজ করতে চাই, তাহলে নির্বাচন আয়োজনের জন্য আরও ছয় মাস অপেক্ষা করা প্রয়োজন।”

\r\n

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন দ্রুত শেষ করার পক্ষে অনেকেই মত দিয়েছেন। তবে একটি দল ছাড়া বাকিরা তেমন স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি।”

\r\n

নিজের বক্তব্যে ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি প্রধান অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। তিনি জানান, সরকার প্রশাসনিক কাঠামো, নীতি এবং বিচারব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে চায়।

\r\n

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা এমন এক ব্যবস্থা চাই না যেখানে মানুষ হত্যা করা হতো এবং বিচার ব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। আমরা নতুন প্রতিষ্ঠান ও নীতি গড়ে তুলতে চাই, যাতে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থা পায়।”

\r\n

এক প্রশ্নোত্তর পর্বে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, “আমি শিখেছি, মানুষ কষ্ট পাওয়ার জন্য জন্মায় না—মানুষ জন্মায় অসীম সম্ভাবনা নিয়ে। আমাদের কাজ হলো সেই সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়া।”

\r\n

প্রধান উপদেষ্টা জানান, তিনি ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের নানা পর্যায়ের মানুষের মতামত গ্রহণ করেছেন এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতের জন্য একটি কার্যকর রূপরেখা তৈরির চেষ্টা করছেন।

\r\n

তাঁর এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—বিশেষ করে নির্বাচন ঘিরে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে।